Pages

Showing posts with label মুসলিম বিজ্ঞানী।. Show all posts
Showing posts with label মুসলিম বিজ্ঞানী।. Show all posts

Saturday, May 6, 2017

মুসলমানদের জ্ঞান চুরি করেই গড়ে উঠেছে পাশ্চাত্য সভ্যতা ......... .





আমরা অনেকেই মুসলমানদের অতীত সমৃদ্ধি ও জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে জানি না। কিন্তু সত্য কখনো আড়ালে থাকে না। যুগে যুগে অসৎ কাজের লোক যেমন জন্মেছে তেমনি ভালো কিছু লোকও জন্মেছে যাদের কারনে আমরা আজ এ সত্য জানতে পেরেছি।


মুসলিম বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের বহু আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানীক তত্ত্ব ইউরোপীয়রা সচেতনভাবে নিজেদের নামে চালিয়ে দিয়েছিল। অনেকটা গোয়েবলসীয় কায়দায় দশবার মিথ্যা বলে তাকে সত্য বানাবার প্রচেষ্টায় তারা খানিকটা সফলতাও অর্জন করেছে বলতে হবে। একারনেই তাদের লোভ বেড়ে যায় এবং তাদের উদ্দেশ্যু হাসিল করার জন্য তারা এতটাই তৎপর ছিল যে, পুরো মুসলিম জাতির কাছেই এখন তাঁদের অতীত গৌরব ধোঁয়াশাচ্ছন্ন হয়ে গেছে বলা যায়। এটা তাদেরই কৃতিত্ব। মুসলিম দেশের মুসলিম ছাত্ররাও আজ জানতে পারে না বিজ্ঞান বিষয়ে তারা যে থিওরী পশ্চিমাদের আবিষ্কার বলে মুখস্থ করছে তার কোন কোনটি তাদের পূর্বপুরুষ কোন মুসলিম বিজ্ঞানীরই আবিষ্কার। এমনকি কালজয়ী বহু মুসলিম বিজ্ঞনীর নামও তারা কিম্ভূতকিমাকার করে ছেড়েছে, যাতে তাঁর জাতি-পরিচয় চেনা না যায়।
মুসলিম বিজ্ঞানীদের নাম ও আবিষ্কার বেনামী করণের য়ে সকল নমুনা দৃষ্টিগোচর হয়েছে তার কয়েকটি নিম্ন রুপ:
আল বাত্তানী – (রেথেন), ইউসুফ আল ঘুরী _ (জোসেফ টি প্রিজড), রাজী – (রাজম),
আল খাসিব – (বুবাথের), কায়বিসি – (ক্যাবিটিয়াস), খারেজমি – (আল গরিদম),
ইবনে সিনা – (এভিসিনা), ইবনুল হাইছাম – (হ্যাজেন), যারকালী – (মারজাকেল),
ইবনে বাজ্জা –(এভেনপেজ), বিতরূজী – (পিট্টাজিয়ান), ইবনে রুশদ – (এভেরুন)।
এই ন্যাক্কারজনক কাজ যে ভাষার পরিবর্তন ও অগোচরে ঘটে গেছে তা মনে কারার কোন মানেই হয় না। অতি সচেতনভাবেই, ইতিহাস বিকৃত ও আত্নস্থ করার এই প্রকল্প কয়েকশত বছর আগে পাশ্চাত্যের এক শ্রেণীর কু-মতলবীরা গ্রহণ করে। নইলে পাশ্চাত্য সভ্যতা গ্রীক ও রোমন সভ্যতা থেকে লাপ দিয়ে এসেছে এমন উদ্ভট কথা তারা বলতো না।এখানে বলে রাখা ভাল পাশ্চাত্যেরই সত্য-সন্ধানী অনেক ঐতিহাসিক, বিজ্ঞান বিষয়ক ইতিহাসের গবেষক প্রমান করেছেন যে আরবরাই পাশ্চাত্য সভ্যতার আসল জনক। এ রকম কয়েকজন গবেষক হলেন : Gorge Sarton, Sir T. Arnold, R. A. Nicholson, Hitti Draper, Gibb, Joseph Hell, Levy, Macdonald, Pickthal, Richmond, Breiffault, E. Deutsch, Sedillot, Max-Neuburger, Renan, Lane Poole, Roger Bacon, Humbold প্রমূখ।

তাদের সবার মতেই "আরবরাই প্রথমে গ্রীক লেখকদের পৃথিবীর সাথে পরিচিত করে দিয়েছিল। বর্তমান পৃথিবীর জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্র ইউরোপের বর্তমান সভ্যতা এবং উন্নতি জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়ার বহু আগে আরবরাই প্রথম অন্ধকার ইতিহাসের পাতা জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছিল।"

পাশ্চাত্যের ইতিহাসবিদ-গবেষকরাই আবিষ্কার করেছেন, তাদের পূর্বতন অসাধু এক শ্রেণীর লোক আরব জ্ঞান-বিজ্ঞানকে সুচতুরভাবে আত্নস্থ করতে নিয়োজিত ছিল। ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের শিক্ষক , Fuat Sezgin প্রায় ৩৭ বছর আগে এ বিষয়ে গবেষনা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি ইস্তাম্বুলের লাইব্রেরীতে খুঁজে পেলেন ১ লক্ষ ২০ হাজার পাণ্ডুলিপি, যা মুসলমানদের বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের অসামান্য দলিলরুপে প্রমানিত হলো। এই পাণ্ডুলিপিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ব্যাখ্যার পর তিনি জানালেন, সারা পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ লক্ষরও অধিক আরব বিজ্ঞানীদের পাণ্ডুলিপি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তিনি এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণার জন্য জার্মান রিসার্চ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় গড়ে তুললেন একটি প্রজেক্ট। তাঁর এ অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে তিনি বাদশা ফয়সল প্রাইজ এবং পরবর্তিতে তার অবদানের জন্য জার্মান সরকার তাকে The Great Medal পুরস্কারে ভূষিত করেন।
Fuat Sezgin তাঁর গবেষনায় দেখিয়েছেন, মধ্যযুগের মুসলিম বিজ্ঞনীদের কাজ নকল করা, অনুকরন করা এবং কখনো কখনো পুরোটাই নিজেদের বলে চালিয়ে দিয়েছে পাশ্চাত্য সভ্যতা। দ্বাদশ খৃস্টাব্দে এ আরবরা এ চাক্রান্ত ধরে পেলে। তাই সেই সময় ডিক্রি জারী করা হয় যে, “খৃস্টানদের কাছেু বিজ্ঞানের কোন লিখা বিক্রি করা যাবে না”। পরে আরো কঠোরভাবে বলা হয় যে, “আরবদের লিখা অনুবাদ ও প্রকাশ করার জন্য কঠোর শাস্তি দেয়া হবে”।

ফলে শুরু হয় আরবদের জ্ঞান ও বিজ্ঞান গোপনে পাচারের কাজ। দশম শতকে স্পেনের টলেডো শহর ছিল এই জ্ঞান ও প্রযুক্তি পাচারের প্রধান ঘাঁটি। এখানে দলবেঁধে পাশ্চাত্যের দূর-দূরান্তের শহরে থেকে ছাত্ররা পড়ত আসতো। পরে ফান্সের কাস্ট্রেস শহর, টোলাউজ শহর, রেইমস্ শহর, টুরস্ শহর এবং প্যারিস প্রভৃতি শহর এই অপকর্মের পীঠস্থান হিসাবে যুক্ত হয়। ইতালি এবং কৃষ্ণ সাগরের পাড়ে অবস্থিত ট্রাবজোনের গ্রীক অনুবাদের স্কুলও এ জন্য বিখ্যাত। দ্বাদশ শতকে গেরহার্ট ভন ক্রেমোনা নামক এক অনুবাদক একাই নব্বইটি পাণ্ডুলিপি অনুবাদ করেন।১১২০ খ্রিস্টাব্দে সুপ্রসিদ্ধ আরব বিজ্ঞানী আল বাত্তানীর লিখা অনুবাদ করেন প্লেটো ভান টিতোলী এবং বইটির নতুন নাম দিলেন “Hand book of Astronomy”। পরবর্তিতে যা টলেমীল নিজের জ্ঞান হিসাবেই পরিচিতি লাভ করেছিল।
এ চুরি ইউরোপীয় আধিপত্যের যুগে আরও কত ব্যাপকভাবে হয়েছিল তা অনুমান করা কঠিন কোন ব্যাপার নয়। পাশ্চাত্যের কিছু বিবেকবান গবেষক সত্য সন্ধানে এগিয়ে এসেছিল। আমাদেরও আমাদের ঐতিয্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস উদ্ধারে এগিয়ে আসা উচিত।
ভাই আসুন আমরা প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা করি। কারন এটা আমাদের অধিকারের প্রশ্ন। যদি আমরা আমাদের অধিকার না আদায় করতে পারি তাহলে এই ঘটনা আমাদের ক্ষেত্রে আবার ঘটতে পারে। কিভাবে একাজ করা যেতে পারে সে বিষয়ে আপনাদের সকলের মন্তব্য সাদরে গ্রহণ যোগ্য।
দয়াকরে মুসলমানদের প্রতি এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন।
আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্র: বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান।

Monday, March 27, 2017

চিকিৎসা ও রসায়ন শাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের অবদান !



সমগ্র বিশ্ব যখন নানা কুসংস্কারে ও পাপে নিমজ্জিত ছিল। বিশ্বের মানুষ যখন নানা অনাচারে গুমরে মরছিল এবং অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল তখনই ইসলাম শান্তি ও সভ্যতার আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিল। তৎকালীন বিশ্বকে বিশেষ করে আরববাসীকে অধঃপতনের অন্ধকূপ হতে তুলে সম্মানিত ও উচ্চতম স্থানে স্থাপন করেছিল মুসলিম মনীষীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের দ্বারাই।

চিকিৎসা শাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের অবদান :
৯ম শতাব্দীতে মুসলিম মনীষীগণই সভ্যতার প্রকৃত পতাকা বাহক। বিদেশী গ্রন্থাদির ভাবধারার সাথে আপন চিন্তাধারার সমাবেশ করে তারা এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। খলিফা মামুন অনুবাদ কার্যের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগ খুলেছিলেন। তিনি বাগদাদে যে বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাতে একটি অনুবাদ বিভাগও ছিল। আর এই অনুবাদের জন্য খলিফা কোনো রকম বৈষম্য সৃষ্টি না করে বিভিন্ন জাতি হতে লোক নিযুক্ত করতেন।

এসব লোকের গবেষণার ফলে ব্যাকরণ, অলংকার শাস্ত্র, ভাষাতত্ত্ব, ভূগোল, ইতিহাস, রসায়ন শাস্ত্র, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতি শাস্ত্র এককথায় জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রত্যেক শাখা প্রশাখার উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

৯ম শতাব্দী হতে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ছিল মুসলিম মনীষীদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের জন্য স্বর্ণ যুগ। এ শতাব্দীতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল আবু আলী আল হুসাইন ইবনে সিনা। ইসলামের অন্যতম এই চিকিৎসা বিজ্ঞানী সমগ্র ইউরোপ জুরে তিনি এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন যে, তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক বলা হত। তিনি বুখারার নিকটবর্তী আফসানা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর আল-কানুন ফিততিব নামক গ্রন্থ রচনা করে সু-পরিচিতি লাভ করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানী ছাড়াও ইবনে সিনা ছিলেন দার্শনিক, গণিতজ্ঞ, ভাষাতত্ত্ববিদ, কবি ও সাহিত্যিক।

ইবনে সিনা বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রায় ১২৫টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তার কিতাব আল-সিফা দর্শনের উপর একটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এটা ৮টি খণ্ডে বিভক্ত ছিল। মধ্যযুগের ইউরোপে এটা একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হত।

মুসলিম খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম বিজ্ঞানের েেত্র যে উন্নতি সাধিত হয় তা হলো চিকিৎসা শাস্ত্র। উমাইয়া খলিফাগণ চিকিৎসা শাস্ত্রকে উৎসাহিত করলেও মূলত আব্বাসীয় আমলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রকৃত উন্নতি হয়। এ যুগে অনেক অনুবাদক ও চিকিৎসক চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর নতুনভাবে আলোকপাত করেন। এ ভাবে তারা তাদের মৌলিক চিন্তা-ধারার স্বার রেখে গেছেন।

খলিফা আল মনসুরের রাজত্বকালে গ্রিক বিজ্ঞানের অনুবাদ কার্য জুন্দিশাপুর কলেজে পূর্ণোদ্যমে আরম্ভ করা হয়। জুন্দিপুরের প্রধান চিকিৎসাবিদ ছিলেন বখত ইসু। তার পুত্র জুরদাসকে খলিফা আল মনসুর তার দরবারে আমন্ত্রণ জানান। ইতিহাসের কালক্রমে এ বখত ইসু-এর পরিবার বাগদাদে স্থায়ী ভাবে বসবাস করা শুরু করে এবং আড়াই শতাব্দী ধরে খলিফাদের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে। তার পর আস্তে আস্তে আরো চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি সাধিত হয়। যা এক সময় শুরুই করেছিলেন মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ।

ঔষধ প্রস্তুত প্রণালীর উন্নতি ঃ রোগ নিরাময়ে ঔষধ প্রয়োগ ব্যবস্থায় আরবগণ বিশেষ অগ্রগতি সাধন করেন। আর্তমানবতায় মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ সমগ্র পৃথিবীতে রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতাল নির্মাণ করেন। মূলত তারাই ঔষধ প্রস্তুত ও ঔষাধালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ভেষজ বিজ্ঞান সংক্রান্ত গ্রন্থাদি প্রকাশ করেন। খলিফা আল মামুন ও মুতাসিমের আমলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন।

History and life G ejv nq Well equipped hospitals usually associated with medical schools were located in prinicipal cities through out the muslims empire.

অনুবাদ কার্য আরম্ভ হলে চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর অনেক গ্রিক ও অন্যান্য বিদেশী গ্রন্থ অনুদিত হয়। হুসাইন বিন ইসহাক নামক একজন আরবীয় খৃষ্টান হিপোক্রাটসের সাতখানা বই গ্যালেন ও পলের রচনাদি, ভিসকোরা ইউসের মেটারিয়া মেডিকো প্রভৃতি গ্রন্থাবলী অনুবাদ করেন। তার পুত্র ইহসাক ইসা বিন ইয়াহ ইয়া ও কুস্তইবনে লুকাত চিকিৎসা শাস্ত্রের গ্রন্থ অনুবাদ করেন। ৮২০ খৃষ্টাব্দ থেকে ৯০১ খৃস্টাব্দ যাবিত বিন কুবরা হাররানে স্বাধীন ভাবে কাজ করতেন এবং মাথা বুক প্রভৃতি রোগের উপর পুস্তক প্রকাশ করতেন বা করেন।

মুসলিম মনীষীগণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি, শৈল চিকিৎসা, হাম বসন্ত রোগেরও চিকিৎসা করেছেন। অনুরূপ ভাবে চু চিকিৎসার েেত্রও মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। যা আজো পৃথিবীর বুকে ইতিহাস হয়ে আছে।

আলী আত তাবারী : মৌলিক গবেষণায় ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে সকল নাম সমধিক প্রসিদ্ধ হয়েছে তাদের মধ্যে আত তাবারী, আল রাযী, আলী বিন আব্বাস ও ইবনে সিনা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। আলী আত তাবারী ছিলেন মুসলিম খলিফা মুতাওয়াক্কিলের গৃহ চিকিৎসক। তিনি খলিফার পৃষ্ঠপোষকতায় “ফেরদৌস উল হিকমা’ একখানা বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। এ গ্রন্থে শুধু চিকিৎসা শাস্ত্রই নয়, দর্শন, জ্যোতি বিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যা সম্বন্ধেও আলোচিত হয়েছে। এটা গ্রিক, ইরানী ও ভারতীয় শাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।

আল রাযী : মুসলিম চিকিৎসাবিদদের মধ্যে আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আল রাযী ছিলেন মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ একজন চিকিৎসাবিদ। তিনি গ্রিক, পারসিক ও ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ হুসাইন বিন ইসহাকের ছাত্র ছিলেন।

মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী আল রাযী প্রায় দুই শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। আর এর অর্ধেকই ছিল চিকিৎসা শাস্ত্র সম্বন্ধীয় বসন্ত ও হাম সম্পর্কীয়। তার জগত বিখ্যাত গ্রন্থ আল-জুদারী আল হাসাবাহ প্রথমে ল্যাটিন ও পরে ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য তার সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো “আল হাভী” এটা মোট বিশ খণ্ডে লিখিত।

মুসলিম মনীষী আল রাযী বাগদাদ হাসপাতালের (বিমারিস্থান) প্রধান চিকিৎসক ছিলেন। অস্ত্রোপাচারে তিনি সিটরের আবিষ্কার করেন। চিকিৎসা শাস্ত্র ছাড়াও তিনি ধর্মতত্ত্ব, অংকশাস্ত্র প্রভৃতি বিজ্ঞান ও জ্যোতি বিজ্ঞানের উপরও বহুগ্রন্থ লিখেছেন।

আলী বিন আব্বাস : আলী বিন আব্বাস পারস্যের জরোষ্ট্রীয় বংশোদ্ভূত মুসলমান ছিলেন। তিনি আল কিতাব আল মালিক নামে যে বিশ্বকোষ লিখেছেন তা ল্যাটিন জগতে Liber Regius নামে পরিচিত।

উক্ত গ্রন্থে ঔষধের সূত্র ও ব্যবহার সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে। তখনকার বুয়াইশ শাসক আযদদ্দৌলার নামে এ গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছিল যা ল্যাটিন ভাষায় মোট দুইবার অনূদিত হয়। আবু আলী হুসাইন বিন সিনা তার যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ ছিলেন। তিনি ইউরোপে আভিসিনা নামে পরিচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর তার বিখ্যাত গ্রন্থ কানুনুল হিকমাহ আরব জগৎ হতে ইউরোপে আনিত সর্বাধিক প্রভাবশালী গ্রন্থ। একে চিকিৎসা শাস্ত্রের বাইবেল বলে।

ইবনে সিনার কানুন সম্পর্কে অধ্যাপক হিট্রি বলেন, কানুনের আরবি সংস্করণ ১৫৯৩ সালে রোমে প্রকাশিত হয়েছিল। এবং এটা একটি প্রারম্ভিক যুগের মুদ্রিত গ্রন্থ। আরবি চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার স্থান অদ্বিতীয়। আবুল কাসেম (আল বুকাসিম) রচিত ‘আত তাসরিক’ ইউরোপে অস্ত্রোপাচার প্রবর্তনে বিশেষ ভাবে সাহায্য করেছিল।

ইবনে রুশদ আর একজন শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি মুসলমানদের উদ্ভাবিত ঔষুধ প্রস্তুত বিদ্যায় বিশেষ দ ছিলেন। তিনি অনেক রোগের প্রতিশেধকও আবিস্কার করেন। এ ছাড়াও তিনি অনেক চিকিৎসা শাস্ত্রে অবদান রেখেছিলেন।

মুসলমান শাসকগণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য মুসলিম, অমুসলিম সকলকেই উদারভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতেন। তারা স্থায়ী চিকিৎসা নিরাময়ের জন্য হাসপাতাল তৈরির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালেরও ব্যবস্থা করেছিলেন। অপর দিকে মুসলিম হাসপাতালে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনা ছিল।

রোগ নির্ণয় বিদ্যা মুসলিম শাসন আমলে উন্নতির চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তেমনি ভাবে চু চিকিৎসা শাস্ত্র ও মুসলমানদের নিকট বিশেষভাবে ঋণী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য বসরার আবু আলী হুসাইন আল হিশাম প্রথম সিদ্ধান্ত নেন যে আলোক রশ্মি বাইরের বস্তু হতে চুতে আসে, চু হতে বস্তুতে যায় না।

রসায়ন শাস্ত্রে মনীষীদের অবদান : চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতি শাস্ত্র, গণিত ও ভূগোল শাস্ত্রের পর মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ অবদান হলো রসায়ন শাস্ত্র। আরবরা আধুনিক শাস্ত্রের আবিষ্কারক। রসায়ন শাস্ত্রকে আরবরা আল কিমিয়া বলত এবং তা হতেই মসূল আল কেমী কেমিস্ট্রি শব্দ উদ্ভব হয়েছে। যা বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে রসায়ন শাস্ত্র নামে পরিচিত।

খালিদ বিন ইয়াযিদ মাবিয়া হতে আল কেমী বা রসায়ন শাস্ত্রের আরম্ভ হয়। তিনি ছিলেন আরবদের মধ্যে প্রথম রসায়নবিদ। কিন্তু আব্বাসীয়দের আমলে মুসলমান বৈজ্ঞানিকগণ এ বিজ্ঞান শাস্ত্রের যথেষ্ট উন্নতি সাধন করেন। ‘মি. হামবোল্ট বলেন, আধুনিক রসায়ন শাস্ত্র মুসলমানদেরই আবিষ্কার বলা যায় এবং এ দিক দিয়ে তাদের কৃতিত্ব অদ্বিতীয়।

মুসলিম বিজ্ঞানীগণ প্রাচীন রসায়নের অসারতা প্রমাণ করেন। তারা পারস্য, সীসা, তাম্র, রৌপ্য ও স্বর্ণের রাসায়নিক স্বাদৃশ্যের সন্ধান করেন। তারা ধাতুর সাথে অম্লজান মিশ্রণ ও হিসাব নিরূপণের জন্য রাসায়নিক পদ্ধতি সম্বন্ধে অবহিত ছিলেন, মুসলিম মনীষীগণই পৃথিবীকে সর্বপ্রথম পাতন পরিশ্রাবণ ও স্বচ্ছকরণের শিাদান করেন। তারা তরল পদার্থকে বাম্পে পরিণত করতে জানতেন।

জাবির ইবনে হাইয়ানকেই বলা হয় আধুনিক রসায়ন শাস্ত্রের জনক। যিনি পাশ্চাত্যে জাবের নামে সুপরিচিতি লাভ করেছেন। মধ্যযুগের রসায়ন শাস্ত্রে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ আসনের অধিকারী। তিনি প্রাচীন রসায়নবিদদের তুলনায় অধিক মননশীলতার পরিচয় দেন। জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়ন শাস্ত্রে সূত্রও ব্যবহারের বিশেষ উন্নতি বিধান করেন।

চতুর্দশ শতাব্দীর পরে জাবির ইবনে হাইয়ানের রচনাবলী এশিয়া ও ইউরোপে রসায়ন শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য নিবন্ধ হিসেবে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সম হয়। তিনি রসায়ন শাস্ত্রের উপর প্রায় ৫০০ গ্রন্থ রচনা করেন। আর ২২টিরও বেশি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।

তার এ সকল গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-

১. কিতাব আল রাহমা কৃপার পুস্তক

২. কিতাব আল তাজমী = খর্বকরণ

৩. কিতাব আল জিবাক

৪. কিতাব আল সারকী প্রতীচ্যের পারদ ইত্যাদি গ্রন্থাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া তিনি লুঘুকরণ, বাষ্পীয় কারণ, তরলী করণ, সপটি করণ ইত্যাদি সূত্র এই মহান মুসলিম মনীষীদের আবিষ্কারের ফল। তিনি বিভিন্ন সূত্রকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোচনা করে উন্নতি সাধন করেছিলেন।
 

Blogger news

Blogroll

About